চিন্তা করো একবার। তোমার প্রিয় মানুষটা মৃত্যুর কিনারায়। ডাক্তার বললেন, একটা কিডনি দান ছাড়া রাস্তা নেই। তুমি কী করবে? বেশিরভাগের মাথায়ই ঘুরপাক খায় ভয়, দ্বিধা। কিন্তু কিছু মানুষ আছে যারা সেকেন্ডের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের জন্য পরিবার মানেই তো জীবন। আজ এমনই কিছু ভাইবোন-এর গল্প বলব, যারা প্রশ্নের মুখে দিলেন এক অপ্রত্যাশিত উত্তর। ভাইবোন বাঁচাতে কিডনি দিলেন, আর যখন জিজ্ঞেস করা হলো “এত বড় কাজটা করলেন কেন?”, তাদের উত্তরটা শুনে সবাই হতবাক।
একটা জীবনদান এর সিদ্ধান্ত নেওয়া কেমন লাগে, জানো? ভাবতে পারো? শরীরের একটা অংশ চিরতরে চলে যাবে। কিন্তু ওই যে বললাম না, নিঃস্বার্থতা এর একটা আলাদা ভাষা আছে। এটা কোনো হিসেব-নিকেশের ব্যাপার না। এটা শুধুই ভালোবাসা। পত্রিকায় পড়েছিলাম, ভারতে প্রতিদিন গড়ে ১৬ জন রোগী অঙ্গের অভাবে মারা যান। এই সংখ্যাটা ভাবায়, তাই না?
আমার এক পরিচিত ভাইয়ের গল্প শোনো। তার বোনের কিডনি একদম কাজ করছিল না। ডায়ালিসিসে জীবন ওষ্ঠাগত। পরিবারের সবার টেস্ট নেওয়া হলো। ম্যাচ হলো তার। সে দ্বিতীয়বার ভাবলও না। অপারেশনের আগে রুমে বোনকে বলল, “দিদি, তুই সুস্থ থাকলেই হলো।” কথাটা বলতে কতক্ষণ? কিন্তু এর পিছনে যে আবেগ, সেই অপ্রত্যাশিত উত্তর এর বীজ লুকিয়ে আছে।

“তুমি এটা করলে কেন?” – উত্তরটা যা ভাবেননি লোকজন
এখানেই আসল মজার ব্যাপার। অপারেশন সফল হওয়ার পর, সবাই একই প্রশ্ন করল দাতাকে। “ভাই, তুমি তোমার একটা কিডনি দিয়ে দিলে? এত বড় ঝুঁকি নিলে কেন?” তারা ভেবেছিল উত্তর হবে “কারণ ও আমার বোন” বা “ওকে বাঁচাতেই হবে।” কিন্তু না।
ওই ভাইয়ের উত্তরটা ছিল চমকপ্রদ। সে হেসে বলল, “আমি কিছুই করিনি। ওই একটা কিডনিটা তো আমার দরকার ছিল না। আমার বোনের দরকার ছিল। তাই দিয়ে দিলাম। হিসাবটা এতই সিম্পল।” শুনে মনে হলো না? এটা কোনো বড় বক্তৃতা না। এটা হলো অঙ্গ দান এর সবচেয়ে খাঁটি, অকৃত্রিম দর্শন।

নিঃস্বার্থতার পেছনের সাইকোলজি
মানুষ যখন এত বড় একটা দান করে, আমরা ভাবি নিশ্চয়ই ভীষণ কষ্টের সিদ্ধান্ত। কিন্তু গবেষণা বলে অন্য কথা। ২০১৭ সালের একটা স্টাডি দেখায়, জীবিত দাতাদের ৯৫% এরও বেশি পরে কোনো আফসোস করেন না। বরং তারা আরও সুখী বোধ করেন। কেন?
- অর্থপূর্ণতা: তারা নিজের জীবনকে আরও অর্থবহ মনে করেন।
- গভীর সংযোগ: প্রিয়জনের সাথে সম্পর্কের বন্ধন অটুট রইল, এই তৃপ্তি অসাধারণ।
- নিজের উপর বিশ্বাস: তারা নিজের সাহস ও মানবিকতাকে নতুন করে চিনতে পারেন।
এটা একটা মানসিক ‘উইন-উইন’ সিচুয়েশন। দাতা একটা অংশ দিলেন, কিন্তু পেয়ে গেলেন অফুরান তৃপ্তি। এটাই তো জীবনদান এর আসল ম্যাজিক।
কিডনি দানের কিছু কমন ভুল ধারণা
আমাদের সমাজে কিডনি দান নিয়ে নানা কুসংস্কার আছে। আসলে জেনে নেওয়া যাক সত্যিটা কী।
ভুল ধারণা ১: “কিডনি দিলে নিজের জীবন সংকটে পড়বে।”
সত্যি কথা: সুস্থ মানুষ একটি কিডনি দিয়েও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, দীর্ঘ জীবন কাটাতে পারেন। বাকি একটি কিডনি কাজের চাপ কাভার করে নেয়।
ভুল ধারণা ২: “দাতার শারীরিক ক্ষমতা কমে যাবে।”
সত্যি কথা: নিয়মিত চেকআপ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলে দাতা আগের মতোই সক্রিয় থাকতে পারেন। অনেক অ্যাথলিটও কিডনি দানের পর প্রতিযোগিতায় ফিরেছেন।

তোমার পরিবারে কি কেউ সাহায্য চাইতে পারে?
এখন নিজের দিকে তাকাও। তোমার পরিবার এ কি কেউ লড়াই করছে? শুধু কিডনি না, হয়তো সময়ের দরকার, মানসিক সমর্থনের দরকার। অনেক সময় আমরা ভাবি, “আমি কি পারব?” কিন্তু সেই প্রথম স্টেপটা নেওয়াই সবচেয়ে কঠিন।
মনে রাখবে, সাহায্য করার অনেক রূপ আছে। একটা কিডনি দান হয়তো সবাই করতে পারবে না। কিন্তু ভালোবাসা দান, সময় দান, সমর্থন দান – এটা তো আমরা সবাই পারি। শুরুটা সেখান থেকেই।
তো, আজকের গল্পগুলো থেকে কী নিলে? একটা জিনিস পরিষ্কার – মানুষের মাঝে নিঃস্বার্থতা এখনও মরে যায়নি। এটা লুক

