ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি, “মেয়েদের এই ব্যথা হয়, এটাই স্বাভাবিক।” মাসের পর মাস, বছরের পর বছর। কেউ প্রশ্ন করেনি, কেন এটা নীরব ব্যথা হয়ে থাকে? কেন ডাক্তার বলছেন “টেনশন করো না”? আসলে, এই কথার আড়ালে লুকিয়ে আছে আরেক সত্যি। এটা হলো পুরুষতান্ত্রিক স্বাভাবিকতা। একটা ভয়ংকর ফাঁদ। আর এই ফাঁদের নাম এন্ডোমেট্রিওসিস

ব্যথাটা যখন অসহ্য হয়, তখনও বলে, “মেয়েদের এসব হয়, সহ্য কর।” কিন্তু কে বলেছে এটা স্বাভাবিক? তাদের বলার অধিকার কে দিয়েছে? এই প্রশ্নটা ঘুরতে থাকে, কিন্তু উত্তর কেউ দেয় না। আর এই না-দেওয়া উত্তরটাই তৈরি করে লিঙ্গ বৈষম্য। এক ধরনের মিসোগিনি। যা এতটাই সাধারণ হয়ে গেছে যে, আমরা নিজেরাই কখনো কখনো বিশ্বাস করে ফেলি, “হ্যাঁ, হয়তো এটাই স্বাভাবিক!”

তবে না, বন্ধু। এটা মোটেও স্বাভাবিক নয়। এটা একটা অদৃশ্য রোগ। যার ব্যাথা বোঝা যায় না, দেখা যায় না, শুধু অনুভব করা যায়। আর এই ‘অদৃশ্য’ হওয়াটাই নারীর জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক। কারণ যখন কোনো রোগ চোখে পড়ে না, ডাক্তারি পরীক্ষায় ধরা পড়ে না, তখন সেটাকে ‘মাথার রোগ’ বলে উড়িয়ে দেওয়া অনেক সহজ। সেটাই হচ্ছে নারীস্বাস্থ্য নিয়ে সবচেয়ে বড় অবহেলা।

এন্ডোমেট্রিওসিসের নীরব ব্যথা ভিজুয়ালাইজেশন

কেন “স্বাভাবিক” শব্দটা এত বিপজ্জনক?

ভাবো তো, পুরুষেরা যদি প্রতি মাসে তলপেটে তীব্র ব্যথা অনুভব করত? কিম্বা থাইরয়েডের সমস্যা কম ঘোষণা করা হতো নারীদের? না, তা হতো না। সেদিনই গবেষণার জন্য বরাদ্দ বেড়ে যেত চারগুণ। কিন্তু এন্ডোমেট্রিওসিস নিয়ে কথা বলতে গেলেই লোকে বলে “ওহ, এটা পুরনো কথা। হরমোনের সমস্যা, সব মেয়েরই হয়।”

তুমি কি জানো, গড়পড়তা একজন নারীর এন্ডোমেট্রিওসিস ধরা পড়তে প্রায় ৭ থেকে ১০ বছর লেগে যায়? (*Source: Endometriosis UK*) হ্যাঁ, ঠিক শুনেছো। ৭ বছর। সেই সময়ে সে কত ডাক্তার বদলায়? কত বার তাকে বলা হয় “তোমার কিছু হয়নি, সব পরীক্ষা নরমাল”? কত বার তাকে ভাবতে হয় যে, “হয়তো আমি ওভার-রিঅ্যাক্ট করছি”?

ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের একটি গবেষণা বলছে, অদৃশ্য রোগ হিসেবে পরিচিত এন্ডোমেট্রিওসিসের ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের ব্যথার সমান বা কখনো কখনো আরো বেশি তীব্র হয়। কিন্তু ‘দেখতে’ না পাওয়ায়, এটাকে ‘স্বাভাবিক’ মাসিক ব্যথা বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। এখানেই আসল মিসোগিনি লুকিয়ে থাকে।

নারীস্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলা ভিজুয়ালাইজেশন

আমাদের সমাজের “পুরুষতান্ত্রিক স্বাভাবিকতা” ফিল্টার

ভাবছো, পুরুষতান্ত্রিক মানে কি শুধু বাবার রাজত্ব? না। পুরুষতান্ত্রিক মানে হলো সিস্টেম। এমন একটা সিস্টেম যেখানে শুধুমাত্র পুরুষের অভিজ্ঞতাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ মনে করা হয়। আর নারীর ব্যথাকে ‘ছোট’ করে দেখা হয়। তাকে বলা হয় ‘এমোশনাল’, ‘উইক’, ‘ড্রামাটিক’। এই ফিল্টার দিয়ে দেখা হলে, নারীস্বাস্থ্য কখনোই গুরুত্ব পায় না।

এই ফিল্টার কাজ করে কিভাবে?

  • ডাক্তারি প্রশিক্ষণে: বেশিরভাগ গবেষণাই পুরুষের ওপর করা হয়। নারীর পিরিয়ডের ব্যথা নিয়ে সিরিয়াস কোনো গবেষণা নেই বললেই চলে।
  • কথায় কথায় ‘হরমোনাল’ বলা: নারীর কোনো রাগ বা ব্যথা থাকলে, তাকে সঙ্গে সঙ্গে ‘হরমোনের সমস্যা’ বলে চিহ্নিত করা হয়। যেন ব্যথাটা সত্যি নয়, শুধু হরমোনের ‘নাটক’।
  • সাইলেন্স শেমিং: সমাজ নারীকে শিখিয়ে দেয়, ‘মাসিক’ নিয়ে কথা বলা লজ্জার। ফলে সে চুপ করে থাকে। আর চুপ থাকলেই নীরব ব্যথা আরো গভীর হয়।

এই ফিল্টারগুলো ব্যবহার করে, সমাজ ‘স্বাভাবিক’ বলে ডেকে নারীর জরায়ুকে ধ্বংস হতে দেয়। কারণ তখনো তার ব্যথা ‘দেখা যায় না’।

লিঙ্গ বৈষম্য ও পুরুষতান্ত্রিক স্বাভাবিকতা ভিজুয়ালাইজেশন

বাস্তব জীবনের উদাহরণ: ‘সে তো সোজা!’ ভাইরাল জিনিসটা

মনে পড়ে, কয়েক বছর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছিল ‘She is so easy’ নামে একটা ট্রেন্ড। যেখানে নারীরা শেয়ার করছিল, ডাক্তাররা তাদের সমস্য