বুড়ো বয়সে হাসপাতালের করিডরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করা কেমন লাগে, জানেন? হাত কাঁপে, চোখে ভয়, আর মনে একটাই প্রশ্ন— “আমার কী হবে?” গত মাসে এমনই এক ৯০ বছরের রোগীর গল্প শুনলাম, যিনি হাসপাতালে এসেছিলেন নিঃশ্বাসের সমস্যা নিয়ে। ডাক্তাররা বললেন, একটু রক্তনালীর স্ক্যান করাতে হবে। পরিবারের লোকজন তো শুনেই পাথর! ৯০ বছরের বুড়ো মানুষের শরীরে ক্যাথেটার ঢুকবে? অপারেশন থিয়েটার? না না, একদম না।

কিন্তু যা ঘটল, তা শুনলে you’ll be shocked. সেই ডিজিটাল সাবট্র্যাকশন অ্যাঞ্জিওগ্রাফি নামের স্ক্যানটা শেষ হতে না হতেই ডাক্তার হেসে বললেন, “উনি এখন বাড়ি যেতে পারেন।” হ্যাঁ, একদম সত্যি! ৯০ বছরের বৃদ্ধাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিল একটু রক্তনালীর স্ক্যান — ডিজিটাল সাবট্র্যাকশন অ্যাঞ্জিওগ্রাফির আসল সত্য সামনে এসেছে। ব্যাপারটা কি শুধুই ভাগ্য, নাকি বিজ্ঞানের অদ্ভুত জাদু? চলুন, আজ এই রহস্যটাই খুলে বলি।

আপনি কি কখনো ভেবেছেন, আমাদের শরীরের ভেতরের রাস্তাঘাটগুলো কেমন দেখতে? কল্পনা করুন, ঢাকার মতো ব্যস্ত শহরের সরু গলি— যেখানে রক্ত নামক গাড়িগুলো ছুটছে। একটা ব্লক হলেই তো বিপত্তি! আর এই স্ক্যানটা আসলে সেই গলিগুলোর একটা লাইভ ম্যাপ। অ্যাঞ্জিওগ্রাফির সত্য হলো, এটা ভয়ের কিছু না। বরং, এটা একটা ইনফরমেশন টেকনোলজি, যা বাঁচিয়ে দিতে পারে ৯০ বছরের রোগীকেও।

ডিজিটাল সাবট্র্যাকশন অ্যাঞ্জিওগ্রাফি উদাহরণ ভিজ্যুয়ালাইজেশন

কথাটা শুনুন, কিন্তু ভয়টা বাদ দিন

আমার এক বন্ধু আছে, সে ডাক্তার। ওই যে গল্পটা শুরু করলাম, ওই বুড়ির রোগীটা ছিল ওর কেস। ও বলছিল, “দাদা, মানুষ ভাবে অ্যাঞ্জিওগ্রাফি মানেই বুকে কোপ দেওয়া। আসলে কিছুই না।” আধুনিক ভাস্কুলার স্ক্যান এতই উন্নত যে, এটা একটা ইনজেকশনের মতোই সহজ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন ৯০ বছরের বুড়িকে স্ক্যান করে সাথে সাথে বাড়ি পাঠানো হলো? কারণ, স্ক্যানটা দেখলো যে ওনার রক্তনালীগুলো ৪০ বছরের যুবকের মতো পরিষ্কার!

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, ডিজিটাল সাবট্র্যাকশন অ্যাঞ্জিওগ্রাফি (DSA) হলো সেই টেকনিক, যেখানে কন্ট্রাস্ট ডাই দিয়ে রক্তনালীর ছবি তোলা হয়। আর কম্পিউটারটা আগের ছবি আর পরের ছবি বিয়োগ করে দেয়। ফলে হাড়, মাংস, সব অদৃশ্য হয়ে যায়। শুধু নেভিগেট করার মতো রক্তনালীর নীলচে রাস্তাটা ভেসে ওঠে।

“৯০ বছরের রোগী” দেখলেই অনেকে বলেন, “আর না, অনেক হয়েছে।” কিন্তু আপনি কি জানেন, একটা পরিসংখ্যান বলছে, ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে ৬০% মানুষ চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে জটিলতায় মারা যান? কারণটা কি জানেন? কারণ, আমরা ভয়ে হাসপাতালে যাই না। কিন্তু এই স্ক্যানটা সেই ভয়টাকেই উড়িয়ে দিয়েছে। এটাকে একটা রুটিন ভ্যাকসিনের মতো ভাবুন।

ভাস্কুলার স্ক্যান প্রযুক্তি রোগী পরীক্ষা

ভয়টা আসলে কীসের? অজ্ঞতার!

লোকজন রক্তনালীর স্ক্যান শুনলেই আতঙ্কিত হয়ে যায়। “ও মা, রক্তনালীতে কিছু ঢোকাবে নাকি?” আমার কাছে মনে হয়, এটা রোলারকোস্টারের মতো। প্রথমবার ভয় লাগে, কিন্তু একবার চড়লে পুরো মজা। DSA-তে একটা ছোট ক্যাথেটার পায়ের (বা হাতের) ধমনীতে ঢোকানো হয়। কিন্তু এই টিউবটার ব্যাস কত জানেন? একটা চুলের সমান! আর ব্যথা? একটা মশার কামড়ের চেয়েও কম। তাও যদি ব্যথা লাগে, ডাক্তার স্থানীয় অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে দেয়।

আমার মনে পড়ে, ২০১৯ সালে এক গবেষণায় দেখা গিয়েছিল, DSA পদ্ধতিতে জটিলতার হার ১% এরও কম। অথচ অপারেশন করলে সেই ঝুঁকি ১০% এর বেশি। তাহলে হিসেবটা সোজা, right? যে বৃদ্ধার স্বাস্থ্য ভালো, তার জন্য এই স্ক্যান এক বিশাল আশীর্বাদ। কারণ, এতে বারবার কাটাছেঁড়া করার দরকার হয় না। একবার স্ক্যান, ব্যস— সব ছবি সামনে।

একটা ঘটনা বলি। ধরুন, আপনার বাসার প্রধান দরজাটা জ্যাম করে গেছে। এখন আপনি কি পুরো বিল্ডিংটা ভাঙবেন? নিশ্চয়ই না। আপনি লকস্মিথ ডাকবেন। DSA হলো এই লকস্মিথ। এটা শুধু সমস্যাটাকে চিহ্নিত করে, চিকিৎসা কোথায় করতে হবে, সেটা বলবে। কিন্তু যেটা মজার, সেটা হলো সাবট্র্যাকশন টেকনিক। কম্পিউটারটা একটা ছবি তোলে, আর আরেকটা ছবি তোলে— দুটোর পার্থক্য থেকেই রক্তনালীর অবস্থা স্পষ্ট।

বাড়ি ফেরার পথে বৃদ্ধার স্ক্যান ফলাফল

কেন বাড়ি পাঠানো হলো? প্রযুক্তির সাফল্য!

এখন সেই মূল প্রশ্নে আসি। ৯০ বছরের বৃদ্ধাকে কেন স্ক্যানের পর সাথে সাথে ছেড়ে দেওয়া হলো? কারণটা হলো— ফলাফল নেগেটিভ এসেছে। স্ক্যানে