তুমি কি জানো, সন্তান হওয়ার পর আয়নায় নিজেকে দেখতে কেমন লাগে? মনে হয়, আগের সেই মানুষটা আর নেই। শরীর বদলে গেছে, মন বদলে গেছে, আর চারপাশের সব কিছু যেন একেবারে উল্টে গেছে। কিন্তু একটা কথা বলি, ৩৩ বছর বয়সে এসেও যদি তুমি ভাবো যে সব শেষ, তাহলে তুমি ভুল। প্রসবোত্তর শরীর নিয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বরং, মা হওয়ার পর ফিটনেস নিয়ে অনেকেরই একটা ভয় কাজ করে। কিন্তু জানো কী, আমি এক বন্ধুর কথা বলছি, যে ৩৩ বছর বয়সে মা হওয়ার পর শরীর বদলে ফেলার এক অভ্যাস গড়ে তুলেছিল—যা তার জীবনটাই পাল্টে দিয়েছে।
হ্যাঁ, শিরোনামটা ঠিকই পড়েছ। ‘৩৩ বছর বয়সে মা হওয়ার পর শরীর বদলে ফেলার এক অভ্যাস যা সব পাল্টে দিল’—এই কথাটা শুনেই কি এখন মনে হচ্ছে, ‘কী সেই অভ্যাস?’ সেটাই আজকে বিস্তারিত বলব। আর হ্যাঁ, শরীর বদলের অভ্যাস গড়ে তোলা আসলে ততটা কঠিন না, যতটা আমরা ভাবি। চলো, শুরু করা যাক।
আমার এক ক্লায়েন্টের কথা মনে পড়ে, নাম সারা। বয়স ৩৩, সবেমাত্র মা হয়েছে। সন্তানের পর তার ওজন বেড়ে গেছিল প্রায় ১৫ কেজি। হঠাৎ করেই সে ঠিক করল, কিছু করতে হবে। কিন্তু ডায়েটিং বা জিমে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটানো তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। ফলে সে বেছে নিল একটি সিম্পল, কিন্তু কার্যকরী হ্যাবিট। সেই একক অভ্যাসটাই সব বদলে দিল। আর সেটা কী ছিল? সেটা হলো—প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে, চা বা কফি খাওয়ার আগে, ১০ মিনিটের জন্য শুধু নিঃশ্বাসের ব্যায়াম এবং স্ট্রেচিং। শুনতে খুব সোজা, তাই না? কিন্তু এই ছোট জিনিসটাই তার পুরো ওজন কমানোর টিপস কে কার্যকর করে তুলল।

প্রথমেই আমরা বড় বড় লক্ষ্য নিয়ে বসে যাই। ‘আমি এক মাসে ১০ কেজি কমাব’—এই চিন্তা করলেই কিন্তু ঝামেলা বাড়ে। আসলে, পোস্টপার্টাম ডায়েট মানেই নিজেকে ক্ষুধার্ত রাখা না। সরার অভ্যাসটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে তার শরীর চর্চা রুটিন কে ধাপে ধাপে গড়ে তুলেছে। শুরুটা শুধু ১০ মিনিটের স্ট্রেচিং দিয়ে। তারপর সে যোগ করেছে ৫ মিনিটের প্ল্যাঙ্কিং। তারপর ধীরে ধীরে হাঁটা। প্রথম মাসে, সে মাত্র ২ কেজি কমিয়েছে। কিন্তু তাতে সে হতাশ না হয়ে উৎসাহিত হলো।
আমি জানি, তোমাদের মনে প্রশ্ন আসছে—’অভ্যাসটা কি শুধু স্ট্রেচিং?’ একদম না। এই অভ্যাসটির পিছনে একটা গভীর সাইকোলজি কাজ করে। যখন তুমি সকালে উঠে একেবারে সহজ কিছু করো, তখন তোমার মস্তিষ্কে একটা ‘জয়’ এর অনুভূতি হয়। মনে হয়, ‘আমি পারছি! আমি কিছু করেছি!’ এই ছোট সাফল্যই তোমাকে সারা দিনের জন্য এনার্জি দেয়। রিসার্চ বলে, ৭৮% মানুষ ছোট ছোট সাফল্য দেখে বড় লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন। আর সরার বেলাতেও তাই হয়েছে। এই এক অভ্যাসের মাধ্যমেই সে তার প্রসবোত্তর শরীর নিয়ে আবার আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল।

আসলে কী সেই ম্যাজিক্যাল অভ্যাস?
দেখো, কোনো ম্যাজিক নেই। শুধু একটা কথা—কনসিস্টেন্সি। প্রতিদিন একই সময়ে একই কাজ করা। সরার অভ্যাসটা ছিল ‘মর্নিং মুভমেন্ট মিনিট’। সে প্রতিদিন সকাল ৬ টায় উঠত। প্রথমে সে শুধু শুয়ে শুয়ে পা নাড়াত। তারপর হালকা ক্যাট-কাউ স্ট্রেচ করত। তারপর পাঁচ মিনিট শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম। সব মিলিয়ে মোট ১৫-২০ মিনিট। এই সময়টুকু সে শুধু নিজের জন্য রাখত। এমনকি বাচ্চা জেগে গেলেও, সে তাকে পাশে রেখেই ব্যায়াম করত।
- প্রথম সপ্তাহ: শুধু স্ট্রেচিং। একটুও কষ্ট নেই।
- দ্বিতীয় সপ্তাহ: স্ট্রেচিং + ৫ মিনিট দ্রুত পায়ে হাঁটা (ঘরের ভিতরেই)।
- তৃতীয় সপ্তাহ: যোগ করল ৩ মিনিট প্ল্যাঙ্ক। অসাধারণ!
- চতুর্থ সপ্তাহ: পুরো ২০ মিনিট। আর তখনই ফলাফল দেখা দিতে শুরু করল।
কী, শুনতে তো সহজ লাগছে, তাই না? কিন্তু বাস্তবে এই সহজ জিনিসটাই সবচেয়ে কঠিন। অনেকেই বলে, ‘আমার সময় কোথায়?’ কিন্তু তুমি কি জানো, দিনে মাত্র ১৫ মিনিট বের করা কি সম্ভব? সারা তার ফোনের স্ক্রিন টাইম কমিয়ে এই সময়টা বের করেছিল। সে আগে সকালে ফোনে স্ক্রল করত। সেই সময়টুকুই সে নিজের জন্য রাখল। তাতেই বদলে গেল তার শরীর চর্চা রুটিন পুরোটা।

কেন এই অভ্যাস এত কার্যকরী?
প্রথম

