আচ্ছা, বলো তো, পেটের ওপর ওই ছোট্ট গুটিটা কাকে বলে? প্রথমে দেখো, ভাবো, “ওহ, কিছু না। নিজেই সেরে যাবে।” কিন্তু জানো কি, এই চুপিসারেই কিন্তু বাসা বাঁধতে পারে ভয়ঙ্কর কিছু? হ্যাঁ, ঠিক ধরেছো। আমরা কথা বলবো সেই সাইলেন্ট হার্নিয়া নিয়ে, যা অনেকেই উপেক্ষা করেন। আর এটাই পরে ডেকে আনে বড় বিপদ।

তাই এই ছোট্ট গুটিটা কি সত্যিই ক্ষতিকর? নাকি এর ভেতর লুকিয়ে আছে হার্নিয়ার লক্ষণ? চলো, আজ সেটাই খোলাসা করা যাক। পৃথিবীতে প্রতি ১০০ জনের মধ্যে প্রায় ২৭ জনেরই কোনো না কোনো সময়ে হার্নিয়ার সমস্যা হয়। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, তাদের মধ্যে ৪০% মানুষই জানে না যে তাদের ভেতর ইতিমধ্যেই পেটের গুটি বিপজ্জনক হতে পারে!

আমার এক বন্ধুর কথাই ধরা যাক। ওর পেটের বাম পাশে একটা ছোট্ট গুটি। ও দৌড়ঝাঁপ করে, জিমে যায়। ভাবতো, “এ তো কিছুই না।” কিন্তু একদিন ভারী জিনিস তুলতে গিয়ে হঠাৎই ব্যথা শুরু হলো। তারপর তো সরাসরি হাসপাতালে। ডাক্তার বললেন, “এটা সাইলেন্ট হার্নিয়া ছিল, কিন্তু এখন স্ট্র্যাংগুলেটেড হয়ে গেছে।” মানে? মানে, অন্ত্রের একটা অংশ আটকে গিয়েছিল। অপারেশন ছাড়া উপায় ছিল না। ভাবো, কত বড় ঝামেলা!

তাই এই সাইলেন্ট হার্নিয়া নিয়ে সাবধান না হলে কিন্তু মুশকিল! এটা ঠিক যেন একটা অগ্নিকুণ্ডের মতো। প্রথমে ছোট্ট আগুনের ফুলকি, তুমি পাত্তা দাও না। কিন্তু হঠাৎ করেই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। ঠিক তেমনই, এই হার্নিয়াগুলো প্রথমে কোনো ব্যথা দেয় না। তুমি হাঁটো, দৌড়াও, কাজ করো। কিন্তু ভেতরে ভেতরে পেটের প্রাচীর দুর্বল হয়ে পড়ছে। আর একদিন হঠাৎ করেই দেখা দেয় জটিলতা।

বেশিরভাগ মানুষই জানেন না যে হার্নিয়া চিকিৎসা ছাড়া এই সমস্যা নিজে থেকে কখনোই সারে না। ওষুধ খেয়ে বা ব্যান্ডেজ পরে কিছু হয় না। বরং, সময় নষ্ট করলে অবস্থা আরও খারাপ হয়। চিকিৎসকেরা বলেন, হার্নিয়ার চিকিৎসার একমাত্র উপায় হলো অপারেশন। কিন্তু যত তাড়াতাড়ি করাবে, ঝুঁকি তত কম। আমি তো কখনো কখনো দেখি, মানুষ শেষ পর্যন্ত ব্যথায় কাতর হয়ে আসে, কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।

এই গুটি কেন হয়? আসল কারণগুলো কী?

এখন প্রশ্ন হলো, কেনই বা হয় এই গুটি বা পেটে ফুলে যাওয়া? কারণগুলো কিন্তু বেশ মজার। তোমার পেটের ভেতরের পেশীর প্রাচীর যদি দুর্বল হয়, তাহলে ভেতরের অঙ্গ (যেমন অন্ত্র) বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করে। আর সেখানেই তৈরি হয় ওই ছোট্ট থলি বা গুটি। কিছু সাধারণ কারণ জেনে নাও:

  • ভারী জিনিস তোলা: জিমে বডি বিল্ডিং করো? নাকি অফিসের ফাইলপত্র টানাটানি? হঠাৎ করেই জোর দিয়ে কিছু তুললে পেটের ওপর চাপ পড়ে।
  • দীর্ঘস্থায়ী কাশি: যাদের দীর্ঘদিন ধরে কাশি বা অ্যাজমা আছে, তাদের মধ্যে এই ঝুঁকি বেশি।
  • কোষ্ঠকাঠিন্য: পায়খানার জন্য জোর দেওয়ার সময় পেটের ভেতরে চাপ বাড়ে।
  • মোটা হওয়া: অতিরিক্ত ওজন পেটের পেশীর ওপর চাপ বাড়ায়।
  • গর্ভধারণ: সন্তান ধারণের সময় পেটের পেশী প্রসারিত হয়, যা দুর্বল করতে পারে।

আমার একজন ক্লায়েন্ট ছিলেন, নাম রাজীব। তিনি সারাদিন জিমে ঘাম ঝরাতেন। কিন্তু তাঁর পেটের নিচের দিকে একটা ছোট্ট গুটি দেখা গেল। তিনি ভাবলেন, “কিছু না।” কিন্তু আমি তাঁকে বললাম, “দূরে থেকো না। চেক করাও।” তিনি গেলেন না। কিছুদিন পরেই ব্যায়াম করার সময় হঠাৎ করে প্রচণ্ড ব্যথা। শেষমেশ হার্নিয়া সার্জারি করাতে হলো। এখন তিনি বলেন, “তখন যদি প্রথমেই চিকিৎসা নিতাম, তাহলে এত কষ্ট হতো না।”

শেষ মুহূর্তে বিপদ কেন বাড়ে?

আসলে সমস্যা হলো, সাইলেন্ট হার্নিয়ার কোনো নির্দিষ্ট ব্যথা থাকে না। তুমি বোধহয় কখনোই টের পাবে না যে সমস্যা হচ্ছে, যতক্ষণ না এটা গুরুতর আকার ধারণ করে। একে বলে ‘ইনকারসারেটেড’ বা ‘স্ট্র্যাংগুলেটেড’ হার্নিয়া। যখন অন্ত্রের রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, তখন অবস্থা ভয়ানক হয়ে ওঠে।

তবে কিছু সাধারণ লক্ষণ আছে, যেগুলো দেখলে সাবধান হওয়া উচিত:

  • পেটে বা কুঁচকির কাছে হঠাৎ করেই তীব্র ব্যথা
  • বমি বমি ভাব বা বমি
  • গুটির জায়গায় লালচে ভাব
  • পেট ফোলা ফোলা লাগা
  • কোষ্ঠকাঠিন্য বা গ্যাস জমে যাওয়া

গবেষণায় দেখা গেছে, স্ট্র্যাংগুলেটেড হার্নিয়ার ক্ষেত্রে ৬০% রোগীরই অন্ত্রের অংশ নষ্ট হয়ে যায় যদি ৬ ঘণ্টার মধ্যে অপারেশন না করা হয়। ভাবো, কত দ্রুত বিপদ আসতে পারে!

এই সমস্যা এড়ানোর উপায় কী? কীভাবে প্রতিরোধ করবে?

এখন প্রশ